Sunday, 26 October 2014

ভাইফোঁটা
ভায়ের কপালে যদি ফোঁটা দেয় বোন,
ঘুচে যায় যমভীতি মৃত্যূর কারণ।
চন্দনের ফোঁটা দেয় ভ্রাতাকে ভগিনী,
হেন কাজ করে যথা মৃত্যু সঞ্জীবনী।
ভায়ের কপালে বোন যদি ফোঁটা দেয়,
কার সাধ্য যমরাজ ভাই কেড়ে নেয়।
হিন্দু শাস্ত্র বিধি মতে রয়েছে বিধান,
ভায়ের কপালে বোন ফোঁটা করে দান।
ভ্রাতৃভালে ফোঁটা দিলে আয়ু বৃদ্ধি হয়,
প্রতি বর্ষে ভাইফোঁটা শা্স্ত্র মতে কয়।
ফলমূল মিষ্টি আদি ধূপদীপ জ্বলে,
বোন করে ফোঁটা দান ভায়ের কপালে।
বর্ষে বর্ষে ভাইফোঁটা দীপাবলী পরে,

ভাইফোঁটা উৎসব প্রতি ঘরে ঘরে।

                                              মায়ের চোখে জল

মাগো-  বল মা, আমায় বল,
মা তোর চোখে কেন জল,
     নর মুণ্ডমালা কেন মা তোর গলে?
তুই যে মা চণ্ডিকা কালী,
খড়্গধারিণী মা নৃমুণ্ডমালী,
        শিব কেন মা আছে শুয়ে তোর ঐ চরণতলে?
সাজিয়েছি মা বরণডালা,
রক্তজবা ফুলের মালা,
       জ্বলে দীপ, জয়ঢাক আর কাঁসরঘণ্টা বাজে।
লোল জিহ্বা রসনা মেলে,
দু’নয়নে বহ্নিশিখা জ্বেলে,
      খড়্গহাতে কেন মা তুই আছিস মন্দির মাঝে?
করুণাময়ী তুই যদি মা,
তুই কেন মা দিগ্ বসনা,
       বল কেন মা দিয়েছিস এই শাস্ত্র মতে বিধান?
বল মা কেন তোর মন্দিরে,
ছাগ পশুর লাল রক্ত ঝরে,
      বন্ধ কর মা পশুহত্যা, মন্দিরে পাঁঠা বলিদান।
যূপকাষ্ঠে ছাগপশু হত্যা,
বলি বিনা তোর পূজা মিথ্যা,
      পশুরক্তে বল মা কেন তোর পূজা হয়?
বল মা এবার বলিহীন হবে পূজা,
সেই পূজা তো মা তোর আসল পূজা
    বল মা তুই পশুরক্তে কভু মাতৃপূজা নয়,
দে মা বরাভয়, রাখিস মা অভয়।
ভক্তিভরে করলে পূজা করবি বিশ্বজয়।
      পশুরক্তে দেবীপূজা নয়, জয় তারা মায়ের জয়।
জয় মা ভবানী জগজ্জননী কালী মায়ের জয়।
জয় কালী জয় তারা বল, কাটবে মৃত্যুভয়।
      নয়ন জলে করলে পূজা তা নিয়েই দেবী তুষ্ট হয়।

Monday, 20 October 2014

মহাতীর্থ তারাপীঠ
মহাতীর্থ পূণ্যতীর্থ দেবী পীঠস্থান
বীরভূম জেলাস্থিত তারাপীঠ নাম।
উর্দ্ধোগামী পূন্যোতোয়া বহিছে দ্বারকা
সম্মুখে শ্মশান ঘাট নির্জন এলাকা।

সাধক তান্ত্রিক যত কাপালিকগণ
সিদ্ধাসনে বসি জপ করে অগণন।
চিত্ত হয় ভয়শূণ্য আসিয়া শ্মশানে
জয়তারা বলে যদি ডাক ভক্তি মনে।

চতুর্দিক মুখরিত দেবী  জয়গানে।
মায়ের মন্দিরে ভিড় দেবী দরশনে।
ধূপদীপ, ফলমূল, প্রসাদের থালা,
করয়ে প্রদান সবে রক্তজবা মালা।

বামদেব হেথা আসি করিয়া সাধনা।
বামাক্ষ্যাপা নামে খ্যাত করি আরাধনা।


দেবী আগমনী

দেবী আসিছে তাই বাতাসে শিহরণ
দেবী আসিছে তাই শীতল সমীরণ।
দেবী আসিছে তাই দিগন্তে পূর্বাভাস
দেবী আসিছে তাই মেঘমুক্ত আকাশ।

আসিছে কালরাত্রি নামিছে অন্ধকার
চতুর্দিকে জ্বলিছে দীপমালার সার।
জয়গানে মুখরিত আকাশ বাতাস
বাধার কারা প্রাচীর করে হাহুতাশ।

জোছনা মরে গেছে আকাশে চাঁদ ওঠে
প্রিয় হারিয়ে গেছে গোলাপ ফুল ফোটে।
দেবীর জয়গানে বাজিছে জয়ঢাক,
বাজে কাঁসর ঘণ্টা, বন্ধন খুলে যাক।

এসো মাগো এসো দেবী এ বিশ্বভুবনে,

প্রণতি জানাই মাগো তোমার চরণে।